৪৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে দুই দলের ‘ভাগাভাগি’, মানদণ্ড-স্বচ্ছতা নিয়ে টিআইবির প্রশ্ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষা খাতে বেশ কিছু অগ্রগতি হলেও কাঠামোগত দুর্বলতা ও পর্যাপ্ত বাজেটের ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবির) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। টিআইবি বলছে, পদত্যাগ বা অপসারণের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করা হলেও নিয়োগের মানদণ্ড ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উপাচার্য নিয়োগে দুটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের মধ্যে ‘ভাগাভাগি’ হয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণে বলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত দেড় বছরে শিক্ষার্থী ও ‘জনতা’র চাপে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঠ্যপুস্তকের লেখা ও আদিবাসী সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতির চিত্র পরিবর্তন, শিক্ষক নিয়োগ পদায়ন ও অপসারণ এবং বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত সমন্বয় কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
টিআইবি বলছে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ছাত্র সংসদ কর্তৃক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হেনস্তার ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণে বিলম্ব ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
তবে শিক্ষাখাতে বেশকিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে টিআইবি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে দেশের উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নে সার্চকমিটি গঠন, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ পর্যন্ত ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন সম্পন্ন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন অ্যাডহক বা অস্থায়ী কমিটি গঠনের নির্দেশনা, বেসরকারি কলেজে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, সরকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড একধাপ উন্নীত করা এবং বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করার সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।