১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:০৮

রাজউক কলেজে সাড়ে তিনশ অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে জোর করে টিসি, অভিভাবকদের মানববন্ধন

অভিভাবকদের মানববন্ধন  © সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সামনে ‘টিসি নয়, প্রমোশনের’ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অভিভাবকরা। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের কলেজটির মূল ফটকের সামনে আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে অভিভাবকরা ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা জানান, সাড়ে তিনশ এর অধিক শিক্ষার্থীকে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে টিসি দিতে চায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

মানববন্ধনটি ‘নট টিসি, ওয়ান্ট প্রমোশন’ ব্যানারে আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকেরা জানান, কলেজটির ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যারা এক বিষয়ে ৩৩ থেকে ৩৯ নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদেরকে একই শ্রেণিতে বহাল রাখা হয়েছে। আবার যারা একই নম্বর পেয়ে একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য টিসি বা ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে অংশে নেওয়া অভিভাবকদের ব্যানারে লেখা ছিল—‘অন্যায় সিদ্ধান্ত মানি না, ভুল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে, একটি বছর মানে একটি জীবন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস নয়, মেধাবী ও অমেধাবী—সকল শিক্ষার্থীদের নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্যের দায় রাজউক কলেজ কর্তৃপক্ষের নিতে হবে।’

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক অভিভাবক বলেন, আমরা অন্যায় টিসি মানি না। প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রিন্সিপাল আপনারা সদয় হোন। শত শত শিক্ষার্থীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে তাদের জীবনকে ধূলিসাৎ করবেন না। শিক্ষাসচিব, শিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রতি আমাদের আহ্বান, আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া হোক।

আরেক অভিভাবক বলেন, প্রতিষ্ঠান থেকে টিসি দেওয়া এখতিয়ার বহির্ভূত। টিসি দেওয়ার এখতিয়ার শুধুমাত্র শিক্ষাবোর্ডের। কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে তাকে পূর্ববর্তী শ্রেণিতে রেখে যথাযথ শিক্ষাদানের মাধ্যমে মান উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে বলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

মনিরুজ্জামান নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে ক্লাস সিক্সে পড়ে। সে এক বিষয়ে অংকতে খারাপ করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ মান উন্নয়নের কোনো ব্যবস্থাই রাখেনি। এখন আমার ছেলেকে টিসি দিয়ে বের করে দিতে চায়। কিন্তু বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কোনো স্টুডেন্টকেই বের করে দেওয়া যাবে না। তাকে প্রমোশন না দিলেও সেই ক্লাসে রাখতে হবে। এরকম প্রায় অন্যান্য ক্লাস হিসাব করলে প্রায় ৩৬০ জন বা তারও অধিক হতে পারে তাদের সকলকেই টিসি দিয়ে বের করে দিতে চাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।