ব্যাগ-জুতা পাওয়া গেল, মিলল না শাওনের খোঁজ
ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী। এ ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন নুরুল্লাহ শাওন (২৫)। নদীতে তার ব্যাগ ও জুতা মিললেও এখনো তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালার বিপরীত পাশে ব্রহ্মপুত্র নদর চরে এ ঘটনা ঘটে। নুরুল্লাহ শাওন কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার শাহজাহান মিয়ার ছেলে।
শাওনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় শাওন ও রিফাত চরে ঘুরতে গেলে অন্ধকার নেমে আসে। এ সময় সাতজন ছিনতাইকারী তাদের আটকে টাকা দাবি করে। তাদের কাছে নৌকা ভাড়া ছাড়া অন্য কোনো টাকা ছিল না।
শাওনের ভগ্নিপতি জানান, টাকা না পেয়ে ছিনতাইকারীদের একজন রিফাতের গালে থাপ্পড় মেরে মোবাইল বের করতে বলে। এতে শাওন প্রতিবাদ করলে গাছের ডাল দিয়ে দু’জনকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে তারা দুই দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় চারজন রিফাতকে এবং তিনজন শাওনকে ধাওয়া করে। রিফাত সাঁতার জানায় নদীর দিকে দৌঁড়ে গিয়ে দুই বালুশ্রমিকের কাছে পৌঁছায়। বালুশ্রমিকরা বিষয়টি বুঝতে পেরে এক ছিনতাইকারীকে আটক করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ছিনতাইকারীকে আটক করে এবং রিফাতকে উদ্ধার করে। তবে শাওন নদীতে নেমেছেন নাকি অন্য দিকে পালিয়েছেন—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর চর এলাকায় তল্লাশি চালায়। এর পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা তল্লাশি চালিয়ে এখন পর্যন্ত শাওনকে উদ্ধার করতে পারেনি।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের টিম লিডার তরুণ-উর-রশিদ জানান, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত নদীতে তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজ শিক্ষার্থীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। শাওন নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন কি-না তা নিশ্চিত নয়। আপাতত উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের দাবিতে আজ দুপুরে আনন্দ মোহন কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যরা। মানববন্ধনে শাওনের মা শাহিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।
কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল খান বলেন, দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় শাওনকে উদ্ধার করতে হবে এবং জড়িত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল সাকিব জানান, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।