চরফ্যাশনে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল বন্ধ, প্রধান শিক্ষককে শোকজ
নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় তালাবদ্ধ করে বন্ধ রাখার অভিযোগে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ৫১ নম্বর হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এ নোটিশ জারি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে মঙ্গলবার সকালে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সত্যতা পাওয়া যায়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত আছেন এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা দুই শতাধিক। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে যথারীতি ক্লাস শুরু হলেও দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মনিরুল আলম বলেন, সোমবার সকালে ছয়জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ছুটি নিয়ে চলে যান। পরে কেরামতগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থাকায় তিনি চারজন শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়ে সেখানে যান। তার দাবি, তিনি বের হওয়ার পর বাকি শিক্ষকরা বিদ্যালয় তালাবদ্ধ করে চলে যান।
সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যালয় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ রাখার প্রমাণ পেয়েছি।'
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।