আনোয়ারায় নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, চাপে সাধারণ মানুষ
আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে পারে পবিত্র রমজান মাস। তবে রমজান শুরুর আগেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতির চিত্র দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা, পেঁয়াজ, রসুন, ছোলা ও বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ-মাংসের বাজারেও বেড়েছে দাম। ফলে রমজানকে সামনে রেখে বাজার করতে এসে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৭৫ থেকে ১৯৫ টাকায়। মসুর ডাল ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডাল ১৪০ টাকা ও ছোলার ডাল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
চালের দাম কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা। চিড়া ৬০-৭০ টাকা। পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটা কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নারকেল ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। টমেটো, শসা ও মরিচসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।
সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম বেশি। আমরা বেশি দামে কিনে আনছি, তাই খুচরায়ও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
মাছের বাজারে বিভিন্ন দেশীয় মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দামও কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে।
মুরগির বাজারে দাম বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০ টাকা হয়েছে। ব্রয়লার ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
মুরগি বিক্রেতা মো. শাকিল বলেন, ‘খামার থেকে মুরগির দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদনও কিছুটা কম। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
মুদিদোকান ব্যবসায়ী মো. দিদার বলেন, ‘রমজান সামনে রেখে চাহিদা বেড়েছে। পণ্যের ঘাটতি নেই, কিন্তু পাইকারিতে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’
আনোয়ারা সদরের মুদি ব্যবসায়ী মো. করিম বলেন, ‘প্রায় সব পণ্যের দাম একসঙ্গে বেড়েছে। ক্রেতারা অসন্তুষ্ট হলেও আমাদের কিছু করার নেই।’
এদিকে বাজারে আসা ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। ক্রেতা আবদুল মান্নান বলেন, ‘মাসিক আয় বাড়ছে না, কিন্তু বাজার খরচ বাড়ছেই। রমজানে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’
অন্য ক্রেতা রাশেদা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন দামের মুখে পড়তে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি কষ্টকর।’
চাতরী চৌমুহনী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি নুরুল হুদা বলেন, ‘পাইকারি বাজারের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রশাসনের তদারকি বাড়লে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। কেউ পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’