১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৭

চিরকুটের সঙ্গে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকি

চিরকুট ও কাফনের কাপড়  © টিডিসি

চাঁদপুরে  ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে ‘তোর বডি মানুষ খুঁজে পায় কিনা সন্দেহ’ লেখা একটি চিরকুটের সঙ্গে কাফনের কাপড় ফেলে রেখে হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলার মতলব উত্তর উপজেলার একলাসপুর  গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ওই চেয়ারম্যানের নাম মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী। তিনি উপজেলার একলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের একলাসপুর গ্রামে তার বাড়ি। 

চিরকুটে লেখা ছিল, ‘মফিজ আলম মুন্না (দালাল মুন্না) তুই যা খাওয়ার খাইয়া লইস, যা করার কইরা লইস, তুই আগুন নিয়ে খেলছত হাত তো তোর পুরবই। চাইছিলাম তোরে কাফন ছাড়া দাফন দিমু, কিন্তু না উপরের নির্দেশে তোকে কঠিন থেকে কঠিন মৃত্যু দিমু, তাই আজ তোর বাড়িতে পায়ের ধোলু দিয়ে গেলাম, কখনো ভাবিনি তোর  সাথে এমন হবে। যে বাস্তা দেখায় তার সাথেই গাদ্দারি করস, মুরবি মানছস, চেয়ারম্যান হইছস,  পরবর্তিতে চেয়ারম্যান তো দূরের কথা চাকিদারও হতে পারার কি না সদেহ, আর তোর জানাজা  মানুষ পরতে পারে কিনা এবং তোর বড়ি মানুষ খুজে পায়। কি না তা সদেহ, তোর জন আমার একটা সৈনিকই যথেষ্ট ইতি বুঝে নিস সাবধীন!’

চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে যান। এরপর প্রতিদিনের মতো তিনি বাড়ির উঠোন থেকে ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ির ছাদে উঠেন এমন সময় হঠাৎ বিকট শব্দ হয়।   

মফিজুল ইসলাম মুন্না বলেন, ঘটনার পর তিনি প্রতিবেশীদের ডাকেন। ইতিমধ্যে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বের হলে সামনে একটি পলিথিন দেখতে পান। পলিথিনে কী আছে না জেনে তারা, সেটিতে হাত দেননি। পুলিশ আসার পর সেটি দেখে। তখন ভেতরে একটি কাফনের কাপড়  গোলাপজল আতর ও চিরকুট পাওয়া যায়। পরে চিরকুট ও কাফনের কাপড়টি পুলিশ নিয়ে যায়।

মফিজুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘ককটেলসদৃশ কিছু একটা ফোটানো হয়। এখন এমন হুমকি পাওয়ায় আমি উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করব।’

মতলব উত্তর থানার কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়েই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আমি মফিজুল ইসলাম মুন্না চেয়ারম্যান অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি।’