১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৭

সাতক্ষীরার আনোয়ার হোসেনকে প্রথম ভাষা শহীদের স্বীকৃতির দাবি এলাকাবাসীর

সোমবার এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়  © টিডিসি ছবি

১৯৫০ সালে রাজশাহী কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডে গুলিতে নিহত আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাতক্ষীরা জেলা আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

আনোয়ার হোসেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৩০ সালে নানাবাড়ি বুধহাটা গ্রামে তার জন্ম, বাবা কনুই গাজী ও মা পরীজান বিবি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। শৈশবে বুধহাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট বিদ্যালয় হয়ে ভর্তি হন খুলনা জেলা স্কুলে। সেখান থেকে ১৯৪৬ সালে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে খুলনার বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ খুলনার তৎকালীন গান্ধী পার্কে (বর্তমানে হাদিস পার্ক) ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ইশতেহার পাঠ করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদিন পর মুক্তি পেলেও ১৯৪৯ সালে ভাষা আন্দোলনের মিছিল থেকে আবারও গ্রেপ্তার হন তিনি। প্রথমে কোতোয়ালি থানায় এবং পরে রাজশাহী কারাগারে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে পাকিস্তান সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাতজন কারাবন্দি নিহত হন। তাদের অন্যতম ছিলেন ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন।

সাতক্ষীরা জেলা আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সচ্চিদানন্দ দে সদয়ের সভাপতিত্বে ও হাসান ইকবাল মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা জানান, মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী আনোয়ার হোসেনকেই তারা দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে মনে করেন। অথচ রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনো তার যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি। এ সময় অবিলম্বে তাকে দেশের প্রথম ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আশাশুনি সরকারি কলেজ তার নামে নামকরণ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়ক তার নামে নামকরণের দাবিও জানান বক্তারা।

বক্তারা বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আত্মত্যাগের ঘটনাগুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। আনোয়ার হোসেনের আত্মদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ ও পূর্ণতা পাবে।

মানববন্ধনে সিনিয়র সাংবাদিক ও নাগরিক নেতা কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এসকে হাসান, মো. আজারুল ইসলাম, আব্দুল কালাম, আরাফাত ইসলাম ডেনিস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।