১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১১

চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সবুজের বিপ্লব

সবজির বাগানে কাজ করছেন চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা  © সংগৃহীত

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের সরকারি কোয়ার্টারের আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গাগুলোতে এখন আর নেই আগাছা কিংবা ময়লার স্তূপ। সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে সতেজ সবুজের প্রাণচাঞ্চল্য।

চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদার উদ্যোগে গড়ে উঠেছে পরিকল্পিত সবজির বাগান, যা ইতোমধ্যে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অব্যবহৃত সরকারি জমিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন সচেতন উদ্যোগ থাকলে যেকোনো পরিত্যক্ত স্থানই হয়ে উঠতে পারে উৎপাদনের ক্ষেত্র। এই বাগানে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন মৌসুমি ও পুষ্টিকর সবজি। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর সবজি উৎপাদনের সুযোগ।

বাগানে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, পেঁয়াজ, শিম, মরিচ, আলু, শসা,পিয়াজ ও রসুনসহ নানা জাতের সবজি। প্রতিটি গাছ নিয়মিত পরিচর্যায় সতেজ ও সুশৃঙ্খলভাবে বেড়ে উঠছে।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের বাড়ির সামনে কিংবা আশপাশের খালি জায়গায় সবজি চাষ শুরু করেছেন। এতে শুধু পরিবেশের উন্নয়নই নয়, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সাশ্রয়ও সম্ভব হচ্ছে।

সবুজায়নের এই উদ্যোগ যেন বড় এক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে সরকারি জায়গা হোক বা ব্যক্তিগত পরিসর, সচেতনতা ও সদিচ্ছা থাকলে পরিত্যক্ত জমিও হয়ে উঠতে পারে জীবনের নতুন উৎস।

সবজির এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে উপজেলা পরিষদে আসা দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের ভিড় লক্ষ করা গেছে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ উদ্যোগটির প্রশংসা করছেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনার চিন্তা থেকেই এই বাগান তৈরির উদ্যোগ নেন কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা। নিজ তত্ত্বাবধানে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন এই বাগান।

স্থানীয়দের মতে, এই বাগান শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং এখান থেকে মিলছে তাজা ও বিষমুক্ত সবজি। পাশাপাশি অল্প জায়গাতেও যে সফলভাবে চাষাবাদ সম্ভব, সেটির বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমি একজন কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে ভেবেছি, বাসার সামনে পড়ে থাকা জমিটাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। তাই তিনটি প্লটে বিভিন্ন ধরনের সবজি রোপণ করি। এখন আমাদের বাজার থেকে সবজি কিনতে হয় না, নিজের বাগান থেকেই নিরাপদ সবজি পাচ্ছি।’

তিনি আরও জানান, তার উদ্যোগ দেখে উপজেলা পরিষদের অন্যান্য স্টাফরাও ছোট ছোট বাগান গড়ে তুলছেন। ফলে পুরো এলাকায় এক ধরনের ‘সবুজ বিপ্লব’ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ট্রেনিং সেন্টারের পাশেও সবজি বাগান রয়েছে। সেখানে নারী কৃষকসহ বিভিন্ন কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিই। বাগান দেখেই তারা উদ্বুদ্ধ হন এবং বাড়িতে গিয়ে নিজেরাই চাষাবাদ শুরু করেন।’

সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবজি চাষ করতে কৃষক হওয়া জরুরি নয়। যার বাড়িতে এক বা দুই শতাংশ জায়গা আছে, সেখানেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুষ্টি বাগান করা সম্ভব। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব।’