অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের শান্তি-উন্নয়নের প্রধান শত্রু: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক
পাহাড়ের দুর্গম জনপদে মানবিক সহায়তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন। পাহাড়ের অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় দিনব্যাপী মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে পানছড়ি উপজেলার পানছড়ি ইউনিয়নের করল্যাছড়ি পূজগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এই কর্মসূচিতে ১০ জন অসচ্ছল নারীর মাঝে ১০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার, ১৫০টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র এবং ১৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে স্কুল ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। একই সময়ে করল্যাছড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক বলেন, 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম তারই ধারাবাহিকতা।'
তিনি আরও বলেন, 'পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কারও দয়া নয়—এটি পাহাড়ের মানুষের ন্যায্য অধিকার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পাহাড়ে শান্তি ও উন্নয়ন চায় না। তারা পার্বত্য অঞ্চলের অগ্রগতির প্রধান অন্তরায়।'
অস্ত্রধারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'পাহাড়ের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বলছি,অস্ত্র ছেড়ে দিন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করুন। সেনাবাহিনী সবসময় শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষেই রয়েছে।'
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ৫ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ারুস শাহদাত, খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাদেমুল ইসলাম, পানছড়ি সাব-জোন কমান্ডার মেজর আজায়েদ-উর রহমান, পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা, লোগাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয় কুমার চাকমা, চেঙ্গী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনন্দ জয় চাকমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর এমন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের আস্থা, নিরাপত্তাবোধ ও রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস আরও দৃঢ় করছে।
সেলাই মেশিন পাওয়া এক নারী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, 'এই মেশিন দিয়ে এখন ঘরে বসেই কাজ করতে পারব। সংসারের জন্য আর কারও কাছে হাত পাততে হবে না।'
অপরদিকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুধু সহানুভূতির প্রকাশ নয়, বরং পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রের নিবিড় সম্পর্ক ও আস্থার এক শক্তিশালী প্রতিফলন,এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।