পাহাড়ে শিক্ষা বিস্তারে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: অসচ্ছল শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ
পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ির দুর্গম প্রত্যন্ত এলাকার বলং হামারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮১ জন অসচ্ছল ও প্রান্তিক ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে নিজস্ব উদ্যোগে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শুভ্রদেব ত্রিপুরা (সাইমন)।
পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে বসবাসরত অনেক দরিদ্র পরিবার আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাদের সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারে না। অভাব-অনটনের চাপে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে। এমন বাস্তবতা থেকে পার্বত্য অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া রোধ এবং বিদ্যালয়ে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এই মানবিক কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, খাতা, কলম, পেন্সিলসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। নতুন ব্যাগ ও শিক্ষা সামগ্রী পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল আনন্দ আর চোখে ছিল নতুন স্বপ্নের ঝিলিক।
এ সময় অ্যাডভোকেট শুভ্রদেব ত্রিপুরা (সাইমন) বলেন, 'শিক্ষা একটি জাতির উন্নতির মূল চাবিকাঠি। পাহাড়ের প্রান্তিক শিশুদের যেন দারিদ্র্য ও অভাবের কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়তে না হয়,সেই লক্ষ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে পাহাড়ের নেতৃত্ব দেবে, সমাজকে এগিয়ে নেবে।'
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসা জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগেই পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। অভিভাবকরাও জানান, এমন সহায়তা পেলে তাদের সন্তানদের লেখাপড়ায় আগ্রহ আরও বাড়বে এবং বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার কমবে।
শিক্ষার্থীরা এই মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। পাহাড়ের দুর্গম জনপদে শিক্ষা বিস্তারে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা সমাজে মানবিকতা ও শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতার অনন্য বার্তা পৌঁছে দেয়।