সরকারি ঘর পেতে যাচ্ছে জুলাই যোদ্ধা শহীদ সোহাগ মিয়ার পরিবার
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার শহীদ জুলাই যোদ্ধা সোহাগ মিয়ার পরিবারের জন্য সরকারিভাবে আধা পাকা ঘর নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের বড়খাপন গ্রামে এ ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্মিতব্য এই ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করীম, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
শহীদ সোহাগ মিয়া উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের বড়খাপন গ্রামের বাসিন্দা মো. শাফায়েত মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। সোহাগ মিয়া ছিলেন বাবা-মায়ের চার সন্তানের মধ্যে বড়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাফায়েত মিয়ার নিজস্ব কোনো জমি বা সহায়-সম্পত্তি ছিল না, শুধু বসতভিটার জায়গা ছাড়া। জীবিকার তাগিদে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন এবং বর্ষা মৌসুমে হাওড়ে মাছ ধরে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। এলাকায় কাজের সুযোগ কম থাকায় নিরুপায় হয়ে তিনি ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন এবং রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পরিবারের অভাব ঘোচাতে বাবার সঙ্গে সোহাগ মিয়াও প্রায় দুই বছর ধরে ঢাকায় রিকশা চালান। ১৯ জুলাই রিকশা নিয়ে বের হলে রাজধানীতে চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য রিকশাচালকরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শহীদ সোহাগ মিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারিভাবে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান বলেন, জুলাই যোদ্ধা শহীদরা দেশের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা কখনো শোধ করার নয়। শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য। সরকার সে দায়িত্ববোধ থেকেই শহীদ সোহাগ মিয়ার পরিবারের জন্য এই ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও শহীদ পরিবারের সার্বিক কল্যাণে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।