টঙ্গীতে ঢাকাগামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মা ও শিশুর করুণ মৃত্যু
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক মা ও তার শিশুপুত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন জান্নাত (৩৫) ও তাঁর দুই বছর বয়সী ছেলে জুনায়েদ। নিহতের পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে শিশুসন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জান্নাত।
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, রহিমা আক্তারের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি টঙ্গী এলাকায় পৌঁছালে মা ও ছেলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, নিহত জান্নাতের স্বামীর সঙ্গে আগের রাতে ঝগড়া হয়। শনিবার সকালে জান্নাতকে শিশুসন্তানসহ বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
নিহত জান্নাত লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার হারাট গ্রামের ইমাম হোসেনের মেয়ে। তিনি স্বামী ও সন্তানসহ টঙ্গীর তিস্তার গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। নিহত মা ও ছেলের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে নিহত জান্নাতের নানা দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাতে জান্নাতের স্বামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামী তাঁকে মারধর করেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন জান্নাতকে নিতে গেলে তাঁকে দেওয়া হয়নি। শনিবার সকালে জান্নাতকে শিশুসন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দিয়ে স্বামী কাজে চলে যান। এর পরই জান্নাত সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে তিনি দাবি করেন।