০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৩৯

পুরান ঢাকার ঘোড়ার গাড়ি, হারিয়ে যাওয়ার পথে এক শতবর্ষী ঐতিহ্য

ঘোড়ার গাড়ি  © সংগৃহীত

নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী পুরান ঢাকা, তার মধ্যে অন্যতম ঘোড়ার গাড়ি বা টমটম। রাজা-বাদশাহ, জমিদার, বণিক সম্প্রদায়ের আভিজাত্য প্রকাশ করার অন্যতম মাধ্যম ছিল ঘোড়ার গাড়ি। বর্তমানে ঘোড়ার গাড়ি বিলুপ্ত হয়ে গেলেও অস্তিত্ব ধরে রাখার লড়াই এখনো চলছে। 

১৮৫৬ সালে সর্বপ্রথম ঢাকা শহরে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন ঘটে, যা তখন ‘ঠিকা গাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। সময় ও আধুনিক নগরায়ণের চাপে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি এখন অস্তিত্ব সংকটে। এক সময় যে বাহন ছিল এই জনপদের যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ তা আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে।

ঐতিহাসিকভাবে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, ইসলামপুর, নবাবপুর, সূত্রাপুর, সদরঘাট ও বংশাল এলাকায় ঘোড়ার গাড়ি ছিল নিত্যদিনের দৃশ্য। পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে যাত্রী যাতায়াত সবক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতো এ বাহন।

একটা সময় এই এলাকায় প্রায় ৩০০ ঘোড়ার গাড়ি চললেও, বর্তমানে রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। বঙ্গবাজার মার্কেটের পাশে ঘোড়া ও গাড়িগুলোকে বর্তমানে রাখা হয়। সেখানে গেলে ঘোড়াগুলোকে দেখা যায় যত্নহীন ও পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে কোনোরকমে বেঁচে আছে। প্রাপ্তবয়স্ক ঘোড়াগুলোর পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ।

ঘোড়াগুলোকে খাবারের জন্য প্রতিদিন কিনতে হয় খাস, ক্ষুদ, কুড়া ও গম। বর্তমান বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণ তাই এগুলো ক্রয় করতে হয় চড়া মূল্যে।

গুটি কয়েকটি ঘোড়ার গাড়ি যা গুলিস্তান হয়ে সদরঘাট রোডে চলছে। সেগুলোতে জনপ্রতি ৩০ টাকা ভাড়া রাখা হয় তবে বাস ভাড়া ১০ টাকা। তাই শখের বসে ছাড়া কেউ চড়তে চায় না ঘোড়ার গাড়িতে। 

এতেই বিপাকে পড়েছে কোচওয়ানরা, নেই আগের মতো রোজগার ফলে আয়ের থেকে ব্যয় বাড়ছে। ঘোড়ার খাদ্য, চিকিৎসা খরচ ও কোচওয়ানদের নিজেদের পরিবারের খরচ চালাতে কষ্ট হচ্ছে তাই অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।

সদরঘাট রোডে চলাচল করা এক ঘোড়া-চালক আবদুল মালেক বলেন, আমার বাবা-দাদাও এই পেশায় ছিলেন। এক সময় ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে ভালোই সংসার চলত। এখন দিনে যাত্রীই মেলে না। ঘোড়ার খাবার, চিকিৎসা সব কিছুর খরচ বেড়েছে, কিন্তু আয় বাড়েনি। অনেক সময় নিজের খাবার কিনব, না ঘোড়ার খাবার কিনব এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।