৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩২

ফের বন্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন  © ফাইল ছবি

ফের বন্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে টানা ৯ মাসের জন্য দ্বীপটিতে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামীকাল রবিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চলতি পর্যটন মৌসুমের কার্যক্রম শেষ হচ্ছে। ফলে শনিবারই শেষবারের মতো পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে যাত্রা করবে যাত্রীবাহী জাহাজ ও স্পিডবোটগুলো। এরপর থেকে পর্যটকবাহী কোনো নৌযান দ্বীপে চলাচল করতে পারবে না।

জানা গেছে, সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকে। তবে চলতি বছর অতিরিক্ত পর্যটক চাপ, প্লাস্টিক বর্জ্য, প্রবাল ক্ষয় এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন : নাভারন-ভোমরা রেলপথে পূরণ হতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দেড় শতাব্দীর স্বপ্ন

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশ রক্ষায় একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে—রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা বা পার্টি আয়োজন বন্ধ, বারবিকিউ পার্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি নিষেধ।

এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়া মৌসুমে কোনো ধরনের বিরক্তি সৃষ্টি করা যাবে না। প্রবাল, রাজকাঁকড়া, পাখি, শামুক-ঝিনুকসহ দ্বীপের কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সৈকতে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ কমাতে পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

সী ক্রুজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্তকে আমরা মেনে নিয়ে আগামীকাল থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে সকল ধরনের পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। আগামী নয় মাস পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ যাবে না। পরবর্তীতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যা হবার হবে।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। তবে দ্বীপে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসনিক কাজ কিংবা জরুরি সেবার ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করে সীমিত আকারে যাতায়াত চালু থাকবে। ভবিষ্যতে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে।’