ছেলের কবর দেখে নির্বাক সেই জামায়াত নেতার বৃদ্ধ বাবা
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের (৪২) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মাতৃহীন রেজাউলের বয়োবৃদ্ধ বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ নির্বাক দৃষ্টিতে ছেলের কবরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, যেন চোখের জলও শুকিয়ে গেছে।
দেখা গেছে, নিহত জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের গোপালখিলা গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসছিল নারীদের উচ্চ কান্নার আওয়াজ। আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একে একে বাড়িতে এসে পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
বাড়ির আঙিনায় কয়েকজন গোরখোদককে কবর খোঁড়ায় ব্যস্ত দেখা যায়। তবে নিহত রেজাউলের মরদেহ তখনও বাড়িতে পৌঁছায়নি। শোকে পাথর হয়ে থাকা পরিবারের সদস্যদের মাঝে ছিল অসহায় নীরবতা।
গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় মাওলানা রেজাউল করিমকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে সকালে রেজাউলের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে আসেন জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যেহেতু হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, তাই ভিডিও দেখে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। প্রাথমিকভাবে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পরামর্শ নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’
নিহত রেজাউলের শ্বশুর কাকিলাকুড়ার বাসিন্দা হাফেজ মো. আবুবকর বলেন, ‘আমি হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসি চাই। উনার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে এখন দেখবে কে?’
রেজাউলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা জড়িত তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
রেজাউলের মৃত্যুর খবরে গড়জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।