২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪০

সেন্টমার্টিনে বিজিবির বিওপি উদ্বোধন করলেন মহাপরিচালক

সেন্টমার্টিন বিওপি  © সংগৃহীত

সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই অংশ হিসেবে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধীন সেন্টমার্টিন বিওপি এবং টেকনাফের নবসৃজিত সি-বিচ বিওপি উদ্বোধন করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচন উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শাহপরীরদ্বীপে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিজিবির কক্সবাজারের রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ এবং টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (২৬ জানুয়ারি) রাতে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে বিজিবি মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে কক্সবাজার জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অর্পিত সব দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিজিবি মহাপরিচালক মঙ্গলবার সেন্টমার্টিন বিওপি উদ্বোধন করেন। সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সৈনিক লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, মনোবল সুদৃঢ়করণ এবং সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিওপিটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর সেন্টমার্টিন দ্বীপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গতিশীলতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরবর্তী সময়ে বিজিবি মহাপরিচালক টেকনাফ উপজেলার লেঙ্গুরবিল এলাকায় নবনির্মিত সী-বিচ বিওপি উদ্বোধন করেন। আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ বিওপিতে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। নতুন এই বিওপি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তা, কর্মদক্ষতা, মনোবল এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করত। পরে দ্বীপটির নিরাপত্তা দায়িত্ব বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সীমান্ত এলাকার গুরুত্ব ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল সেন্টমার্টিন দ্বীপে পুনরায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে বিওপির উদ্বোধনের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন বিওপির কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলো।