২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৩

নীলফামারীতে ২৪৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল

একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসে  © সংগৃহীত

চীনের অনুদানে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য এক হাজার শয্যার একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মিত হচ্ছে নীলফামারী জেলায়। ঠাকুরগাঁও, রংপুর, পঞ্চগড়সহ অন্তত ২০টি জেলার আবেদন ও স্থান যাচাই-বাছাই শেষে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নীলফামারী জেলাকে নির্বাচন করা হয়েছে। নীলফামারী সদর উপজেলার দাড়োয়ানীতে সুতাকলের (টেক্সটাইল মিলস) এর পরিত্যক্ত প্রায় ২৫ একর জমিতে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে।

‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি রবিবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নীলফামারীর এই হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রংপুর ও ঢাকা-কেন্দ্রিক হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ সময়ের দাবি, আর এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় পদক্ষেপ।

প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৭৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং বাকি অংশ চীনের অনুদানসহ অন্যান্য উৎস থেকে আসবে। প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ সময়কালে বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পের আওতায় একটি আধুনিক ১০ তলা হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন, ডিরেক্টরস বাংলো, প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। এখানে নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি, নিউরোলজিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি থাকবে আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও অপারেশন থিয়েটার।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারীসহ পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে এবং রাজধানীমুখী রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। উত্তরাঞ্চলে এত বড় পরিসরের আধুনিক হাসপাতাল বর্তমানে নেই।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, এই হাসপাতাল শুধু দেশের রোগীদের জন্য নয়, ভবিষ্যতে নেপাল ও ভুটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশের রোগীদের চিকিৎসাসেবার সুযোগ তৈরি করবে। ফলে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানেরও বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজস্ব খাতে প্রায় ৮৯৩ জন চিকিৎসক, ১,১৯৭ জন নার্স এবং ১,৪১০ জন অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রাথমিক সব প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই হাসপাতাল চালু হলে উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ নিজ এলাকায় উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।