৩১ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৫৮

ফরিদপুরে বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ

পৌর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে একাংশের নেতাকর্মীরা  © সংগৃহীত

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সদ্য ঘোষিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে একাংশের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ওয়াপদার মোড়ে মাঝকান্দি–ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

গত ২৩ অক্টোবর রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১০১ সদস্যের পৃথক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পর থেকেই সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপের নেতাকর্মীরা কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

জানা গেছে, ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির দুটি গ্রুপ সক্রিয়। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। অপর গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। দুজনই এই আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী।

বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘোষিত কমিটিতে আওয়ামী লীগের পদধারী বেশ কয়েকজনকে রাখা হয়েছে, অথচ যারা বছরের পর বছর বিএনপির আদর্শে অনুগত থেকে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত ত্যাগী নেতারা অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এই কমিটি বাতিল না হলে ফরিদপুর-১ আসনের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: চবি ছাত্রদলের কমিটিতে বৈষম্যের অভিযোগ, পুনর্মূল্যায়ন না হলে ৩৫ জনের পদত্যাগের হুমকি

খন্দকার নাসিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টাকা খাইয়ে বিএনপির কমিটিতে পদ দিয়েছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এটি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি অসম্মান।

অবরোধ কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাবু, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব নাজিম উদ্দিন মিলু মিয়া, সহসভাপতি ডা. আব্দুস সবুর, পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া, সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, রইসুল ইসলাম পলাশ, মফিজুর কাদের খান মিল্টনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, ‘বড় ধরনের দুর্নীতির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের টাকা নিয়ে বিএনপির পদ দেওয়া হয়েছে। যারা প্রকৃত বিএনপি কর্মী, তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এই কমিটি থাকবে না।’

অন্যদিকে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বোয়ালমারীতে যারা মূল বিএনপির লোক, তাদেরই মূল্যায়ন করা হয়েছে। জেলা বিএনপি যাচাই-বাছাই করেই এই কমিটি দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে নির্বাচনের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছেন। অথচ কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’