২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৫:১৭

গাইবান্ধায় স্বামীর হাতে দ্বিতীয় স্ত্রী খুন

গাইবান্ধায় স্বামীর হাতে দ্বিতীয় স্ত্রী খুন  © টিডিসি ফটো

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক মর্মস্পর্শী ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন শিউলী বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ। অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন নিজ হাতেই তার জীবন কেড়ে নিয়েছেন। 

গত শনিবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের বাগদা বাজার টাওয়ার এলাকার নিজ বাসায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীর বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে শিউলী বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। মরদেহ পরীক্ষায় গলা ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শিউলী বেগম ওই এলাকার বোগদাহ সদর কলোনীর শরীফ মিয়া ড্রাইভারের মেয়ে এবং ফরিদ উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। এই দম্পতির আট বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই শিউলী স্বামীর দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আবারও উভয়ের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ফরিদ উদ্দিন তাকে মারধর শুরু করেন এবং পরে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই শিউলী মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ফরিদ উদ্দিন লাশটি বাড়ির পাশের কলাবাগানে ফেলে রাতের অন্ধকারে পলায়ন করেন। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এলে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং তারা পুলিশকে খবর দেন।

নিহতের বাবা শরীফ মিয়া তার মেয়ের হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন। তিনি আইনের কঠোর বিচার কামনা করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।