১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৫৬

দুর্গাপূজা সামনে, প্রতিমা শিল্পী ও আয়োজকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে

দুর্গাপূজার প্রস্তুতি  © টিডিসি ফটো

আর মাত্র ক’দিন পরেই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যেই গোপালগঞ্জ জেলার প্রতিটি মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শিল্পীদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গা ও তার সহচর-সহচরীদের প্রতিমা। অনেক জায়গায় প্রতিমা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হলেও, এখনো বাকি রয়েছে রঙ-তুলির চূড়ান্ত পরশ।

পূজা আয়োজক ভজন সাহা ও নাড়ু গোপাল জানান, ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু হয়ে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে দেবী দুর্গার আরাধনা। আয়োজকদের বিশ্বাস, এবারও উৎসব হবে শান্তিপূর্ণ এবং মহাআনন্দের।

শিল্পীদের ব্যস্ততা এখন চরমে। খড়, কাদা আর মাটির নিপুণ কাজে প্রতিমার অবয়ব গড়ে তুলছেন তারা। এরপর রঙতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলবেন দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের সৌন্দর্য। প্রতিমা শিল্পী পঞ্চানন পাল ও অমিতোষ পাল জানান, পুরাতন পেশা ধরে রাখতে তারা এই কাজ করে চলেছেন। তবে প্রতিমা তৈরির ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও, পারিশ্রমিক খুব একটা বাড়েনি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তারা।

এবার দেবী দুর্গা গজে (হাতি) চড়ে কৈলাশ থেকে আসবেন এবং দোলায় (পালকি) ফিরে যাবেন, যা শুভ এবং শান্তির প্রতীক বলে মনে করেন ধর্মীয় অনুসারীরা।

আরও পড়ুন: রাকসু নির্বাচনে জোট নয়, পাঁচ ভিন্ন প্যানেলে ভাগ হলেন সাবেক ৯ সমন্বয়ক

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিকদার বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই জেলায় সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের সহযোগিতায় এবারও আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।’

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১ হাজার ২৮৫টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।