১৮ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৩৯

বুক রিভিউ: আবু ইসহাকের ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’

  © টিডিসি ফটো

‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ আলোচিত উপন্যাস। এতটাই আলোচিত যে এ উপন্যাস থেকেই তৈরী হয়েছে দেশের প্রথম সরকারী অনুদানপ্রাপ্ত ছবি৷ সূর্যদীঘল বাড়ি পড়ার সময় যে কোন পাঠকের চোখ অশ্রুসজল হতে বাধ্য। মজার ব্যাপার হচ্ছে উপন্যাসটি বইয়ের পাতায় যেমন আলোচিত, ছবি তৈরীর পরও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।

বইটি উর্দু ভাষায়ও প্রকাশ পায়। উর্দু ভাষায় উপন্যাসটির অনুবাদ হয়েছে ‘আসেবি ঘর’ নামে, যা ১৯৬৯ সালে হাবিব ব্যাংক সাহিত্য-পদক লাভ করে। বাংলাদেশ সরকারের সর্বপ্রথম অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘সূর্যদীঘল বাড়ী’।

আবু ইসহাকের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কারসহ ৭টি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৫টি পুরস্কার অর্জন করে। বইটি প্রকাশক প্রথম দিকে না পাওয়ায় পল্লিকবি জসীমউদ্দিনের দারস্থ হয়েছিলেন লেখক আবু ইসহাক। আবু ইসহাক কবিকে দুই অধ্যায় পড়ে শুনানোর পর জসীমউদ্দিন প্রশংসা করেন। কিন্তু, কবি ব্যস্ত থাকায় প্রকাশের ব্যাপারে পরবর্তীতে আর গুরুত্ব দেয়নি।

অবশেষে উপন্যাসটি প্রকাশের কিছুদিন পর আবু ইসহাক বদলি হয়ে যান করাচি। এর মধ্যে আর দেখা হয়নি কবি জসীম উদাদীনের সঙ্গে। ১৯৬১ সালে দেখা হয় দুজনার। তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের অনেক কবি-সাহিত্যিকদের সাথে জসীমউদদীন রাইটারস গিল্ডের সম্মেলনে যোগ দিতে করাচি যান। সেই জায়গায় জসীমউদদীন লেখককে বলেন ‘ভাই ইসহাক, আমি তোমার ওপর সুবিচার করি নি। তোমার উপন্যাসের কিছুটা পড়ে শুনিয়েছিলে। অতটুকু শুনে তখন উপন্যাসটি মূল্যায়ন করতে পারিনি। এজন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইব কি, আমি নিজেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারছি না।’

আবু ইসহাক আরো লিখেছেন “১৯৬২ সালে তিনি একবার আমার বাসায় গিয়েছিলেন। তিনি বললেন, তোমার ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ চেক ভাষায় অনুবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ডক্টর দুসন একদিন এসে আমাকে বললেন, উপন্যাসে যেসব জায়গার উল্লেখ আছে সেসব জায়গায় তাকে নিয়ে যেতে হবে। তাকে নিয়ে দুদিনে নারায়ণগঞ্জ স্টিমার স্টেশন, রেলস্টেশন, রেলওয়ে ওভারব্রিজ, নম্বরী কুলি, খুদে কুলি, ফতুল্লা স্টেশন ইত্যাদি সব ঘুরে ঘুরে দেখিয়েছি। লোকটার নিষ্ঠা দেখে আমি অবাক হয়ে গেছি।” (অম্লান স্মৃতি/স্মৃতি-বিচিত্রা)।

এ উপন্যাস রচনার পটভূমি আবু ইসহাক সংগ্রহ করেছিলেন তাঁর যাপিত জীবন থেকে। লেখকের এক পত্রে জানা যায় তেমনই অজানা অনেক কথা। সেখান থেকে আমরা জানতে পারি, ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাইয়ের চাকরি নিয়ে তাঁকে কলকাতা থেকে নারায়ণগঞ্জ যেতে হয়। কর্ম উপলক্ষে এ সময় তিনি প্রায়ই নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা যাতায়াত করতেন। ঐ সময় ট্রেনে জয়গুনদের মতো অসংখ্য দুস্থ নারীকে তিনি দেখতেন। যারা ট্রেনে চড়ে ময়মনসিংহ যেতো এবং সেখান থেকে সস্তায় চাল কিনে ফিরে আসতো। ফতুল্লা এবং চাষাড়া স্টেশনে ট্রেন পৌঁছাবার আগেই চালের থলিগুলি তারা রেল রাস্তার পাশে নিক্ষেপ করতো।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জের স্টিমার ঘাটে এবং রেল স্টেশনে হাসুর মতো অনেক নম্বরবিহীন কিশোর শ্রমিকও তিনি দেখেছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন, প্রতিযোগিতা করে তাদের নদী সাঁতরে স্টিমারে উঠে মোট বইতে। গ্রামবাংলার ওঝা-ফকিরের ঝাড়ফুঁক ও অসহায় নারীদের দুঃসহ জীবন সংগ্রামও দেখেছেন লেখক।

লেখকের বক্তব্য থেকে জানা যায়, তাঁর মামাবাড়ির পাশে একটি ছাড়া ভিটে ছিল। সেই ভিটের নাম ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’। সে বাড়িতে মানুষজন স্থায়ীভাবে বাস করতে পারতো না। এ রকম একটি কিংবদন্তি তিনি শুনেছেন তাঁর মায়ের কাছে। কৈশোরের জীবনভিজ্ঞতা ও পরিণত বয়সে নারায়ণগঞ্জের রেলস্টেশনে স্টিমারঘাটে তাঁর সে বাস্তবজীবন-অভিজ্ঞতা, তারই সঙ্গে ছেলেবেলায় শোনা কিংবদন্তি একসূত্রে গ্রথিত হয়ে উঠেছে এ উপন্যাসটি।

আসা যাক ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ উপন্যাস প্রসঙ্গে। নিতান্ত বাঁচার আশায় স্বামী পরিত্যক্ত জয়গুন এক বুক আশা ও চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে ছেলেমেয়েকে সঙ্গে করে শহরে যায় কাজ ও খাদ্যের সন্ধানে। শহরের মজুতদারের গুদামে চালের প্রাচুর্য, হোটেলে খাবারের সমারোহ তাদের আকৃষ্ট করেছিল শহরে যেতে। তবে একমুঠ ভাতের জন্য বড়লোকের বন্ধ দরজার ওপর মাথা ঠুকে ঠুকে নেতিয়ে পড়ে কিংবা রাস্তার পাশের কুকুরের সাথে খাবার কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়েও ভাত জোগাড় করতে পারেনি তারা।

শহরের অলীক বা মিথ্যা হাতছানি তাদের শহরের বুকে ঠাঁই দেয়নি, বরং দূর করে দিয়েছে গলাধাক্কা দিয়ে। অতঃপর কঙ্কালসার দেহ নিয়ে পুনরায় জয়গুনদের ফিরে আসতে হয় ফেলা আসা গ্রামেই। অভাবের তাড়ানায় আগেই বিক্রি করা মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে জয়গুন তখন ভিটেমাটিহীন উদ্বাস্তু। গ্রামের পুনরায় ফিরে আসার পর কোথায় পাবে এক চিলতে জমি? অসহায়ের সহায় তখন একমাত্র থাকে গ্রামের পরিত্যক্ত অপয়া ভিটে ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’।

ঝোঁপ-জঙ্গলে ঢাকা ঐ বাড়িতে কেউ থাকে না। বলা যায় থাকার সাহস পায় না। তারা থাকতে বাধ্য হয়। কারণ পূর্ব-পশ্চিম প্রসারী এ বাড়িটি ঘিরে গ্রামের লোকের মুখে মুখে ফেরে নানান গালগপ্প। গ্রামের সকলের ধারণা এ বাড়িটিতে যারা থাকে তারা নির্বংশ হয়। তাদের কাছে প্রবল অন্ধবিশ্বাসই একমাত্র সম্বল। কিন্তু জয়গুনের এ বাড়িটি ছাড়া আর কোনো আশ্রয় অবশিষ্ট থাকে না। ফলে নিজের ছেলেমেয়ে, নাবালক ভাইপো শফি ও শফির মাকে নিয়ে ঐ ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’তেই আস্তানা গাড়ে। তবে বাড়িটি থেকে ভূতপ্রেতের উপদ্রব ও বংশনাশ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় জয়গুন গ্রামের সুবিধাবাদী ধর্মব্যবসায়ী জোবেদ আলীর দ্বারস্থ হয়।

তথাকথিত ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জোবেদ আলী সেই কথিত অপয়া বাড়ির চারদিক বন্ধন করে। ফলে বাড়ির চালে ভূতপ্রেতের ঢিল পড়া আপাতত বন্ধ হয়। তবে জোবেদ আলীর ছিল অন্য অভিপ্সা। সে জয়গুনের সঙ্গে তার কাম-লালসা চরিতার্থ করতে চায়। জয়গুন তীব্রভাবে তা প্রতিহত করে। অন্যদিকে গ্রামের মাতব্বর গদু প্রধানের একাধিক স্ত্রী ঘরে থাকা সত্ত্বেও গোপনে জয়গুনকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। জয়গুন ঘৃণাভরে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তার ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা বজায় রাখে।

এমনই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে চলতে হয় জয়গুনকে। জীবিকার তাগিদে সে চাল ফেরি করার কাজ নেয়। নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রেনে চড়ে ময়মনসিংহ যায়। সেখান থেকে সস্তায় চাল কিনে তা বিক্রি করে কোনোরকম সংসার চালায়। তাতেও সংকুলান হয় না। ফলে কিশোর ছেলেকে পাঠাতে হয় কুলির কাজ করতে। তবে লাইনের কুলিদের মতো নম্বরধারী নয় বলে ছেলে হাসু স্টিমারঘাটে নির্বিঘ্নে কুলির কাজ করতে পারে না। তাই তাকে বেছে নিতে হয় বিকল্প পথ। গভীর নদী সাঁতরে স্টিমারে চড়ে যাত্রীদের বোঝা ধরতে হয় নম্বরধারী কুলিদের চেয়ে কম ভাড়ায়।

এভাবেই দুর্বিষহ জীবনযুদ্ধে শামিল হতে হয় জয়গুনদের। অন্যদিকে গ্রামের মাতব্বর মৌলবিরা জয়গুনকে ধর্মের শৃঙ্খলে বন্দি করতে চেয়েও পারে না বলে প্রতিশোধ স্পৃহায় জ্বলতে থাকে সবসময়। কোনো একসময় ভাইয়ের বউ শফির মায়ের প্রস্তাবনায় জয়গুন তার নাবালিকা মায়মুনের বিয়ের আয়োজন করে গ্রামের সোলেমান খাঁর ছেলে, সদাগর খাঁর নাতি যুবক ওসমানের সঙ্গে। বিয়ের এ সুযোগটি কাজে লাগাতে চায় ইতোপূর্ব বিবাহ-প্রত্যাশী প্রত্যাখ্যাত গদু প্রধান।

বিয়ের আসরের ভরা মজলিশে গদু প্রধান বরের পিতা সোলেমান খাঁকে তার হবু বেয়ান জয়গুনকে তওবা করতে বলে “হায়ানের মত যেইখানে হেইখানে ঘুইর‌্যা বেড়ায়। ...ভাল মাইনষের মাইয়া। বিয়াও অইছিল ভালা ঘরে। ভালা জাতের মাইয়া এই রকম বেজাত বেপর্দা অইলে আমাগই বদনাম। তোবা করাইয়া দিতে অইব। পরচাতে আর যেন বাড়ীর বাইর না অয়।... বিয়ার আগে বৌ’র মা’রে তোবা করাইতে অইব। তোবা না করাইলে মৌলবী সা’ব কলমা পড়াইব না। আর হে ছাড়া কে কলমা পড়ায় আমি দেইক্যা লইমু।” গদু প্রধানের এমন ফতোয়ার বিরুদ্ধে জয়গুন দৃঢ়তার সাথে দাঁড়ায়। সে বলে- “তোবা আমি করতাম না। আমি কোন গোনা করি নাই। মৌলবী সা’ব বিয়া না পড়াইলে না পড়াউক। আমার মায়মুনের বিয়া দিমু না।”

তবে অবশেষে প্রতিবাদকণ্ঠী জয়গুনকে পরাস্ত হতে হয়। পুরুষতান্ত্রিক বলয়ের ভেতর দাঁড়িয়ে একজন প্রতিবাদী নারীকে তার মেয়ের ভবিষ্যৎ-জীবনের কথা ভেবে মিথ্যে অপবাদ গায়ে মেখে হার স্বীকার করে নিতে হয়। জয়গুন সকলের সামনে তওবা করে। আর তওবা করা মানেই ঘরবন্দি হওয়া, আয়- রোজগার বন্ধ হওয়া। যদিও মেয়ের সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি।

জয়গুনের দুঃখের নদীতে জোয়ার বয়ে আসে যখন প্রাক্তন স্বামী করিম ববশের ঔরসজাত পুত্র কাসু মৃত্যুশয্যায় কাৎরাতে থাকে তার সামনে উপস্থিত হয়ে। তাকে বাঁচানোর জন্য সর্বশেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করতে কুণ্ঠিত হয় না জয়গুন। অনেক ঝড়ঝাপ্টার পর বেঁচে ওঠে কাসু। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কাসুকে জয়গুনের কাছেই রাখতে হয়। অভাবের সংসারে আরেকটি ক্ষুধার্ত পেট সংযোজিত হয়। তার ওপর মায়মুনের বিয়ের সময় সবার সামনে তওবা করার কারণে ঘরের বাইরে যাওয়া বন্ধ থাকে জয়গুনের।

ফলে নেই কোনো রুজি-রোজগারের উপায়। নিজের দুই সন্তান হাসু ও মায়মুনের কথা গৌণ হয়ে যায় জয়গুনের কাছে। সবসময় তার দিন কাটে কাসুর চিন্তায়। তার সেবাযত্নের যেন এতটুকু কমতি না পড়ে সে ভাবনায় তটস্থ থাকে জয়গুনের মন। কিন্তু এত কিছুর পরও অভাবের তাড়নায় গ্রামে আর টিকতে পারে না জয়গুন। অন্যদিকে ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’তে কথিত ভূতপ্রেতের উৎপাত আবার বাড়তে থাকে। আবার শুরু হয় ঘরের বেড়া ও চালের ওপর ঢিল পড়া।

এদিকে পুত্র কাসুর চিকিৎসা-সেবায় আন্তরিকতা দেখে জয়গুনের প্রতি মমতা জাগে করিম বকশের। কাসু জয়গুনদের সাথে ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’তে অবস্থান করায় করিম বকশ বাড়ির ওপর ভূতপ্রেতের উৎপাত থেকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসে। সে ফকির জোবেদ আলীকে হাত করে এর পরিত্রাণ জানতে চায়। ফলে রাতদুপুরে ফকিরের নির্দেশে করিম বকশ ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’তে গিয়ে দেখতে পায় ভূতপ্রেত আর কেউ নয়, গ্রামেরই গদু প্রধানের দল।

উপন্যাসের শেষাংশে এ বর্ণনা লেখক ফুটিয়ে তোলেন এভাবে: ‘ছায়ামূর্তিগুলো ঢিল ছুঁড়ছে আর তারই দিকে সরে সরে আসছে। করিম বকশ একটা শব্দহীন চিৎকার করে ওঠে। বার কয়েক ঢিপঢিপ করে হৃদযন্ত্রটা যেন বন্ধ হয়ে যায়। একটা মূর্তি আরো কাছে সরে আসে তার। করিম বকশের গায়ে ধাক্কা লাগে। এবার করিম বকশ চিনতে ভুল করে না। হৃদযন্ত্রটা আবার বার দুই ঢিপঢিপ করে চালু হয়ে যায়। হঠাৎ ঘাম দিয়ে তার ভয়ও কেটে যায়। সে দাঁড়ায়। পাশ থেকে খপ করে ছায়ামূর্তির একটা হাত চেপে ধরে- গদু পরধান! তোমার এই কাম!!’

এই বর্ণনার পর যে বর্ণনাটি দেখতে পাওয়া যায় তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। লেখকের কলমে ফুটে ওঠে সেই বিদীর্ণ করা দৃশ্য- ‘‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’র তালগাছের তলায় করিম বকশের মৃতদেহ টান হয়ে পড়ে আছে। আশ-পাশ গ্রামের লোক ছুটে আসে দেখতে। মৃতের শরীরে কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। সকলেই একমত- ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’র ভূত তার গলা টিপে মেরেছে।”

এ ঘটনার পর জয়গুন আর এক মুহূর্ত থাকতে চায়নি সেখানে। তার ভেতরের সকল শক্তি যেন খান খান হয়ে যায় এক দমকায়। আবার সেই অজানার পথে পা বাড়ায় জয়গুন। ছেলেমেয়ের হাত ধরে জয়গুন ও শফির মা বেড়িয়ে পড়ে। তাদের একমাত্র ভরসা এই আল্লাহর বিশাল দুনিয়ায় কোথাও না কোথাও একটু জায়গা তাদের ঠিকঠাক মিলে যাবে।

আবু ইসহাকের ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে দিয়েছে নতুন মাত্রা। এক্ষেত্রে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। লালসালু’র মতো এ উপন্যাসটিতেও দেখানো হয়েছে মানুষের আলো-অন্ধকার পথ। কুসংস্কারের ভেতর প্রবেশ করে নগ্ন করে দেখানো হয়েছে কুসংস্কারের প্রকৃত মূর্তি।

এ উপন্যাস পাঠে মানুষের ভেতরকার অন্ধকার অলিগলির সন্ধান পাওয়া যায় ঘটনা পরম্পরায়। ভাষিক দিক থেকে উপন্যাসটি অতি সহজপাঠ্য হলেও ঘটনা বর্ণনায় আছে গভীরতা। প্রগাঢ় অর্থবোধকতায় সমৃদ্ধ এ উপন্যাসটির মাধ্যমে সহজ কথায় অনেক কঠিন বিষয় পাঠকের সামনে উপস্থাপন করার অসীম ক্ষমতা দেখিয়েছেন কথাশিল্পী আবু ইসহাক। উপন্যাসটি তাই অনায়াসেই লাভ করেছে ক্লাসিক পর্যায়ে উপবিষ্ট হওয়ার আসন।

লেখক: শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়