হল খোলার দাবিতে উত্তাল শেকৃবি
আবাসিক হলগুলো খুলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। আজ বৃহস্পতিবার করোনা দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হলে থাকার অনুমতি চেয়ে আন্দোলন করেন তারা।
আন্দোলন দমনে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করে শেকৃবি প্রশাসন। জানা যায়, আন্দোলনে সংহতি জানাতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে অবস্থানরত আনসাররা শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাঁধা দেয়।
ফলে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে শিক্ষার্থীদের বাকবিতন্ডা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাকবিতন্ডার একপর্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হারুন-উর-রশিদ শিক্ষার্থীদের বিএনপি, জামাত শিবির বলে আখ্যা দেন। এরপর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে প্রক্টর স্থান ত্যাগ করেন।
পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের বেশির ভাগেরই দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাক্সিন নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় তারা হলের বাইরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সামনে আমাদের বিসিএস পরীক্ষা, সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। এমতাবস্থায় হলের বাইরে থেকে পড়াশোনা করা তাদের জন্য কষ্টকর। তাই দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রাপ্তদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হোক।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে তাদের দাবি তুলে ধরেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়- "অতি দ্রুত সশরীরে ক্যাম্পাসে ক্লাস, পরীক্ষা চালু করতে হবে। আজ থেকেই দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাক্সিন নেওয়া শিক্ষার্থীদের হলে থাকার অনুমতি দিতে হবে। সায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে পুলিশ মোতায়েন বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।"
পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে। প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকারের নির্দেশেই হল বন্ধ করেছে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই হল খুলে দেয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীদের উল্লেখিত দাবি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জানানো হবে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্বাস বলা হয়।