০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১২

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ পুনরুদ্ধারে সমাবেশ‌ অনুষ্ঠিত

পুনরুদ্ধারের দাবিতে সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন এক শিক্ষক  © টিডিসি

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন গবেষণা মাঠ (বাণিজ্য মেলার মাঠ) পুনরুদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের অংশগ্রহণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রশাসনিক ও আন্দোলনমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মাঠটি ফেরত পাওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড নামের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা, সাবেক ও বর্তমান  শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি আবুল হাসান বলেন, ‘একজন ব্যক্তি যেমন তার পৈতৃক সম্পত্তি যেমন ছাড় দেয় না, তেমনি আমরা আমাদের এই মাঠ কোনোভাবেই ছাড় দেব না।’

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ বলেন, ‘তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নানা কূটকৌশলে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য আমাদের নিকট হতে এই জমি নিয়ে নেয়। বর্তমানে এই জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাই আমাদের জমি আমরা গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য ফেরত চাই।’

এনসিপি নেতা তৌহিদ আহমেদ আশিক বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী সময় আমরা বিভিন্ন মহলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। এই জায়গা আমাদেরই। অনেকের মনে শঙ্কা থাকতে পারে যে, এই মাঠ আমরা আদৌ পাব কিনা। যদি আমাদের করো মনে এই শঙ্কা এখন পর্যন্ত থেকে থাকে, তাহলে আজকে থেকে ধরে নেন মাঠটা আজকে থেকে আমাদেরই। এই মাঠকে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হবে। সরকারের বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল চাপ তৈরি করবে, তবে আমাদের কাজ হবে শিক্ষার্থীদের এটা শক্ত হাতে মোকাবেলা করা। প্রয়োজনে বাংলাদেশের কৃষিবিদ কোরামের সবাইকে সহযোগিতা করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সাদা দলের সভাপতি আবুল বাশার বলেন, ‘এই মাঠ পুনরুদ্ধার করতে হলে আমাদের দুই দিক থেকেই এগোতে হবে। প্রশাসনিক ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। আমাদের প্রত্যাশা নির্বাচিত সরকার অবশ্যই কৃষিবান্ধব সরকার আসবে। তাদের প্রতি আমাদের দাবি থাকবে তারা দেশ ও জাতির স্বার্থে এই জায়গা আমাদের ফেরত দেওয়ার। শেকৃবি বর্তমানে ছয় হাজার লোকের পরিবার। এই মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির ডাকা প্রোগ্রামে সবাই অংশগ্রহণ করবে, এই প্রত্যাশা রাখি।’

সমাপনী বক্তব্যে কোর কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘১৯৮৬ সালে আমরা প্রথম এই বিশ্ববিদ্যলয়ের এসে এই মাঠ আমাদের দেখেছি। তখন ৫০০-৬০০ মানুষের পরিবার ছিল। শেকৃবি পরিবার এখন বেড়েছে, এই পরিবারের কাছ থেকে মাঠ ছিনিয়ে নেওয়ার এই অধিকার কারও নেই। এই মাঠ আমাদের শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই মিলে এই মাঠ আমাদের ধরে রাখবে। যখন প্রয়োজন হবে তখন আপনারা সকলে অংশগ্রহণ করবেন। একজন মা যেমন তার সন্তানকে ধরে রাখে, এই মাঠ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সেভাবেই আগলে রাখবে।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য মেলা মাঠে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের লাগানো বিলবোর্ড ভেঙে ফেলেন।