১৯ মার্চ ২০১৯, ২০:৪৬

ছাত্রলীগের র‌্যাগিং থেকে বাঁচতে মসজিদে নবীন শিক্ষার্থীরা!

  © লোগো

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) র‌্যাগিং তথা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন প্রায় ২০ নবীন শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে তারা এ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সোমবার রাতে শেকৃবির নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলে ১৮ ব্যাচের সজিব ও মুহিতের নেতৃত্বে মোর্শেদ, সাফায়েত, তিসান, মাসুদ, সাহাদাত, ইমামুল, সাইদ, মিনহাজ, আসাদ ও তোফায়েল ১৯ ব্যাচের প্রায় ২০ নবীন শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতনকারীরা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, নবীন শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের মতো ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের রুমে দেখা করতে না যাওয়ায় অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তাদের রুম থেকে বের করে ৮ম তলার এ-বি ব্লকের রুমে নিয়ে যায়। এরপর রুমের লাইট বন্ধ করে নবীন শিক্ষার্থীদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে গালিগালাজসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। প্রতিনিয়ত এমন নির্যাতনের ফলে নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা রাতেই তাদের বেডিং নিয়ে হল থেকে বেরিয়ে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অবস্থান করে।

সকালে বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির নজরে আসলে ঘটনা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়ে মসজিদে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের হলে যাবার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হলে না গিয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানায়। অভিযুক্ত ও নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা সবাই কুমিল্লার হওয়ায় ওই অঞ্চলের নেতা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রুদ্রনাথ টোটন তাদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে হলে ফিরিয়ে আনেন।

ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রায় রাতেই ১৮ ব্যাচের ভাইরা আমাদের রুমে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রুমের লাইট অফ করে অশ্রাব্য ভাষায় বকাবকি করে আবার কখনো কখনো আমাদের গায়ে হাত তোলে। বড় ভাইরা বলেছেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রাম সহ যেকোন দরকারে বড় ভাইরা ডাকলে বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকতে হবে, তা নাহলে হলে সিট থাকবে না।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে প্রক্টরিয়াল বডি অবগত এবং তদন্তের জন্য দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। প্রসাশনের পক্ষ থেকে তদন্তে প্রমাণিত দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট ড. মো. ইছাক বলেন, আমার হলে রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আমি প্রভোস্ট হিসেবে প্রশাসনকে যাবতীয় সহযোগিতা করব।