আগুন আতঙ্কে শেকৃবির আবাসিক ছাত্রীরা
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হলে পরপর তিনবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই হলে প্রায় ছয়শত শিক্ষার্থী। গ্যাসের লাইন লিক ও বিদ্যুৎতিক শক-সার্কিট থেকে এসব আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তবে এসব ঘটনায় হতাহতের কোন ঘটনা ঘটে নি।
জানা যায়, গত ১৭ তারিখ রবিবার রাত সোয়া ১০টায় নবম তলার এক রান্নাঘরের চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া হলে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত অবস্থায় দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দুজন পড়ে গিয়ে আহত হয়। ঐ একই হলে বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার সময় সপ্তম তলায় রান্নাঘরে গ্যাসের লাইন লিক হয়। ফলে গ্যাসের গন্ধ নিচতলা এবং ওপর তলায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে হলের নিচে নেমে আসে। এরপর ছাত্রীরা দায়িত্বরত কর্মচারীদের এটি জানানোর পর তারা গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেয়।
তৎক্ষনাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি,প্রো- ভিসি সহ প্রোক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হলে উপস্থিত হন। এ সময় সদ্য নির্মাণ হওয়া হলে বারবার গ্যাসের লাইন লিক হবার কারণ জানতে চাইলে এবং দ্রুত এর প্রতিকার চাইলে প্রশাসনের সাথে ছাত্রীদের বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের সাথে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে কয়েকজন ছাত্রীকে শাসিয়ে তাদের রেজিষ্ট্রেশন লিখে নেওয়া হয় এবং তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
এ সময় শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ ছাত্রীদের বলেন, কেউ ষড়যন্ত্র করে গ্যাস লাইন লিক করেছে। এ সময় ছাত্রীরা হলটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা চান। ছাত্রীরা গ্যাস লাইন লিক হওয়া ছাড়াও অন্য সমস্যার কথা বলতে চাওয়ায় উপাচার্য ছাত্রীদের ধমকিয়েছেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শারমিন আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী হলের সমস্যার কথা বলতে গেলে উপাচার্য তাকে বহিষ্কার করার হুমকি দেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফরহাদ হোসেনকেও ধমক দিতে দেখা যায় উপাচার্যকে। ছাত্রীরা বলছেন, হলে এক মাস হলো গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি চুলা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার দুইদিন পরপর গ্যাসের লাইন লিক হচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাইলে ভিসি স্যার আমাদের ওপর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। ভিসি স্যার আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক ফলে উনার কাছে আমাদের প্রত্যাশাটাও বেশি। আবাসিক শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে উন্নতমানের পাইপ দ্বারা গ্যাসের পুনঃসংযোগ দেওয়া ও প্রত্যেক হলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
উল্লেখ, যে এই ঘটনায় রাত থেকেই হলের পানি,গ্যাস ও সকাল থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। রাতের রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল (শুক্রবার ) দুপুর একটা নাগাদ ঐ হলের চার তলার কনম স্পেসে জমে থাকা পুরাতন জিনিসপত্রে আগুন ধরে। একই সময় পাঁচতলার বারান্দার একটি বৈদ্যুতিক সার্কিট বোর্ডে আগুন ধরে। তবে এ ব্যাপারে মুঠোফোনে উক্ত হলের প্রভোস্ট ড. আয়শা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসনের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। ছাত্রীদের নিরাপত্তা যেখানে প্রধান গুরুত্ব পাবে।