৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪১

ঢাবি-রাবি-চবিকে ছাড়িয়ে কুবিতে ভর্তি পরীক্ষায় আসনপ্রতি প্রতিযোগিতা সর্বোচ্চ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক  © সংগৃহীত

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের প্রধান সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শেষ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তুলনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ভর্তি পরীক্ষার প্রতি আসনে প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে ঢাবির পাঁচ ইউনিটে মোট ৬ হাজার ১২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ২১৬টি। প্রতি আসনে লড়বেন গড়ে প্রায় ৪৬ জন ভর্তিচ্ছু।

অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) তিন ইউনিটে মোট ৩ হাজার ৯৯৭টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৬২৫টি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)  ৪টি ইউনিট ও ৩টি উপ-ইউনিটে মোট ৪ হাজার ১৬৫টি আসনের বিপরীতে অংশ নিচ্ছেন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৭ জন শিক্ষার্থী সে হিসাবে প্রতি আসনের জন্য রাবিতে লড়বেন গড়ে ৬৮ জনের বেশি শিক্ষার্থী এবং চবিতে লড়বেন ৫৬ জন শিক্ষার্থী।  

তবে এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধে আরও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী লক্ষ করা যায়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কোটা ব্যতীত ৮৯০টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৯৬ হাজার ৭৮০টি। ফলে কুবিতে প্রতি আসনের জন্য লড়বেন গড়ে প্রায় ১০৯ জন শিক্ষার্থী, যেটি ঢাবির তুলনায় প্রায় ১৩৭ শতাংশ রাবির তুলনায় ৬১ শতাংশ এবং চবির তুলনায় ৯৫ শতাংশ বেশি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর আমরা কুমিল্লার পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। এ উদ্যোগের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে আমরা লক্ষ্য করেছি, যাতায়াত ব্যবস্থা, আর্থিক ব্যয়সহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী কুমিল্লায় এসে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারতেন না।’

তিনি বলেন‚ ‘সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে ওই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সহজেই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। সে লক্ষ্যে রাজশাহীতে একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লা একটি প্রাচীন জনপদ ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল বহু প্রচীন শিক্ষার নিদর্শন পাওয়া যায়। সম্ভবত সে কারণেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।’

দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে তুলনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা ও গবেষণায় তারা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। আমি এমনটা মনে করি না যে, আমরা তাদের থেকে এগিয়ে আছি। তবে ধাপে ধাপে শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

এ বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন একই মত প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের উত্তর অঞ্চলের অনেক নারী শিক্ষার্থীর জন্য কুমিল্লায় এসে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব সময় সম্ভব হয় না। যাতায়াতের জটিলতা, নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ, আবাসন সংকট এবং আর্থিক ব্যয়সহ নানা কারণে তারা অনেক সময় এখানে আসতে পারেন না। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করে।’

তিনি বলেন‚ ‘এই বাস্তবতা বিবেচনায় রাজশাহীতে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত একটি সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের নারী শিক্ষার্থীরা আরও নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ এবং মানসিক চাপমুক্ত পরিবেশে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে যাতায়াত ব্যবস্থার দিক থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাঝামাঝি হওয়ায় সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে সহজ। এ কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিরাপদ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে কাজ করছে।’