কুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে এ ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ পরবর্তী শিক্ষার্থীদের করণীয় জানিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রার্থীদের করণীয়:
মেধাস্থান প্রাপ্ত সব প্রার্থীকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টা পর্যন্ত https://admission.kuet.ac.bd লিংকে প্রবেশ করে “Online Choice Form” এর প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে এবং বিভাগের পছন্দক্রম প্রদান করতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং ইউআরপি বিভাগের জন্য ১৫ টি পছন্দক্রম পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনে “Online Choice Form” এ প্রদানকৃত তথ্য ও পছন্দক্রম ৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রার্থী পরিবর্তন করতে পারবেন। পূরণকৃত ফরম এর প্রিন্টেড কপি ভর্তির সময় নিয়ে আসতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ ও ইউআরপি বিভাগ (মেধাক্রম ১-৯০৭৮), আর্কিটেকচার বিভাগ (মেধাক্রম ১-৪০), বান্দরবান জেলা (মেধাক্রম ১), পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী ( (মেধাক্রম ১-৪) শিক্ষার্থীদের আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ৩টার মধ্য নিরীক্ষা কমিটির নিকট উপস্থিত হতে হবে। নিরীক্ষা কমিটি দ্বারা প্রার্থীদের সনদপত্র যাচাইপূর্বক জমাদানের পর ওই দিনই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফি আনুমানিক ১২,০০০ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জনতা ব্যাংক, কুয়েট কর্পোরেট শাখায় ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টার মধ্যে জমা দিতে হবে।
ভর্তির সময় প্রার্থীকে যেসব সনদপত্রের মূলকপি নিরীক্ষা কমিটির নিকট দাখিল করতে হবে:
১. শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত এইচ. এস. সি. বা সমমান পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড।
২. মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার মূল সনদপত্র।
৩. মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার গ্রেডশীট এর মূলকপি।
৪. এইচ. এস. সি বা সমমানের পরীক্ষার গ্রেডশীট এর মূলকপি।
৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত এইচ. এস. সি বা সমমানের পরীক্ষার প্রশংসাপত্রের মূলকপি।
৬. সদ্য তোলা (অনধিক ৩ মাস) ০২ (দুই) কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
৭. ভর্তি পরীক্ষাকালীন প্রত্যবেক্ষকের স্বাক্ষর সম্বলিত ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র।
৮. পূরণকৃত Online Choice Form এর প্রিন্টেড কপি।
সংরক্ষিত আসনে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কাগজপত্র:
(ক) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (উপজাতি) প্রার্থীদের বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা এবং উপজাতীয়তার প্রমাণ স্বরূপ (১) যে কলেজ থেকে পাস করেছে সে কলেজের অধ্যক্ষ, (২) জেলা প্রশাসক/স্থানীয় পৌরসভা/ জেলা পরিষদ/ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান এবং (৩) উপজাতীয় মোড়ল/প্রধান এর নিকট থেকে প্রদেয় সার্টিফিকেট সহ মোট ৩ (তিন) টি মূল সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে ।
(খ) বান্দরবান জেলার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক/ স্থানীয় পৌরসভা/জেলা পরিষদ/ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যানের নিকট থেকে বান্দরবান জেলার স্থায়ী বাসিন্দার সনদপত্রের মূল কপি।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা:
ভর্তির জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার/সরকারি হাসপাতাল থেকে নিম্নে উল্লিখিত রিপোর্টসমূহ নিয়ে আসতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক ছাত্র/ছাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট নিরীক্ষা করাতে হবে। মেডিকেল টেস্টের দিন চশমা ব্যবহারকারী ছাত্র-ছাত্রীদের অবশ্যই চশমা সঙ্গে আনতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যদি কোনো প্রকারের শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা ধরা পড়ে, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন অথবা পেশাগত কার্যনির্বাহে অসুবিধা হতে পারে বলে ভর্তি কমিটির নিকট প্রতীয়মান হয় তাহলে তাকে ভর্তির জন্য অনুপযুক্ত বলে গণ্য করা হবে। ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইট (https://admission.kuet.ac.bd) থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্ধারিত ফরম ডাউনলোড করে যথাযথভাবে পূরণ করে আনতে হবে ।
টেষ্টসমুহ:
Height and weight measurement.
Blood pressure
Blood group identification
Vision test
প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্যাবলি:
১. প্রার্থীর মেধাস্থান এবং পছন্দক্রম অনুসারে বিভাগ নির্ধারণ করা হবে যা ভর্তির দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টার মধ্যে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।
২. ভর্তিকৃত প্রার্থীর প্রাপ্ত বিভাগ, মোট শূন্য আসন সংখ্যা এবং পরবর্তী ভর্তির জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।
৩. আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ওরিয়েন্টেশনের পূর্বের দিন পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। ভর্তি বাতিল জনিত কারণে কোনো আসন শূন্য হলে প্রার্থীর মেধাস্থান ও পছন্দক্রম অনুসারে অটো মাইগ্রেশন চলবে।
৪. ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে প্রার্থী তার ড্যাশবোর্ডে লগ ইন করে অটো মাইগ্রেশন বন্ধ করার আবেদন করতে পারবে। আবেদনের সময়ে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আপলোড করতে হবে।
৫. ভর্তির জন্য নির্ধারিত অটো মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে। তবে তার পরের দিন (ভর্তি ফি জমা দেওয়ার দিন) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থীর জন্য অটো মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া বন্ধের সার্ভিসটি চালু থাকবে। প্রার্থীরা ইচ্ছা করলে উল্লিখিত সময়ে অটো মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারবে। এটি একবার বন্ধ করলে আর চালু করা যাবে না।
৬. প্রার্থীর মেধাস্থান ও পছন্দক্রম অনুসারে সর্বশেষ অটো মাইগ্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাপ্ত বিভাগেই ক্লাস শুরু করতে হবে।
৭. ভর্তিকৃত কোনো প্রার্থীর ভর্তি বাতিল করতে হলে ভর্তি বাতিলের নিয়মাবলি মেনে শেষ ভর্তির পূর্বের দিন পর্যন্ত ভর্তি বাতিল করতে পারবে। ক্লাস শুরুর পর ভর্তি বাতিল করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী করতে হবে।