প্রক্সি দিতে এসে আটক ওলামা লীগ নেতার ছেলে

প্রক্সি দিতে এসে আটক ওলামা লীগ নেতার ছেলে
মাহবুব হাসান  © টিডিসি ফটো

গুচ্ছের মানবিক অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে সনদ ও পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক হয়েছে মাহবুব হাসান নামের এক শিক্ষার্থী। 

আটক হওয়া শিক্ষার্থী নিজেকে কেন্দ্রীয় ওলামা লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহীম পীরের সন্তান দাবী করেন। যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ওলামা লীগ নেতা নিজেই। আটক হওয়া শিক্ষার্থীর বাড়ি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার ছোট মালিঝিকান্দা গ্রামে। 

মানবিক শাখার (বি ইউনিট) পরীক্ষার দিনে বেলা সোয়া ১২টার দিকে সামজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৬০১ নং কক্ষ থেকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

পরে ভ্রাম্যমান আদালতে নিয়ে গেলে অভিযোগ এবং অপরাধের ব্যাপ্তী বেশী ও তদন্তের প্রয়োজনে তা সাধারণ মামলা হিসেবে পরিচালনা করতে পরামর্শ দেন ভ্রাম্যমান আদালত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই অভিযোগ দায়ের করে ত্রিশাল মডেল থানায় মামলার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

এদিকে আটক হওয়া শিক্ষার্থী থেকে অর্ধ ডজনের অধিক জাতীয় পরিচয় পত্রসহ ভুয়া সনদ, সিভি, রেজিস্ট্রেশন কার্ড উদ্ধার করে প্রশাসন। সনদ জালিয়াতির অভিযোগ স্বীকার করেছে আটক হওয়া শিক্ষার্থী পরিচয় দেয়া মাহবুব আলম। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ও পরিচয় দিচ্ছিলেন এই অভিযুক্ত।

আরও পড়ুন: জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন, তবে স্বপ্ন উচ্চশিক্ষার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদে স্নাতক পাসের সন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ২০১৯ সাল। অন্যদিকে এইচএসসি পাশের সনের জায়গায় একটিতে ২০১৯ এবং অন্য একটিতে ২০২০ উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযুক্তের পিতার দেয়া তথ্য মতে তার ছেলে মাহবুব হাসান দুই থেকে ৩ বছর আগে এইচএসসি পাশ করেছে। পিতার দেয়া তথ্য সঠিক হলে মাহবুব হোসেনের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, জালিয়াতির কিংবা অনৈতিকতার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্যে সাধারণ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার অপরাধের আওয়তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ ডায়েরি করা হচ্ছে। জব্দকৃত ভুয়া দলিলাদিসহ জিনিসপত্র থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পাশাপাশি মামলা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

পরীক্ষায় অসদুপায়ের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা সুন্দর গোছালোভাবে হয়েছে। আমরা হ্যাপী। আর একজন আটক হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমার প্রশাসন কোন অসংলগ্নতা পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন, বিজ্ঞান ভবন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মোট ১২৫ টি কক্ষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপস্থিতির হার ছিলো প্রায় ৯১ শতাংশ। ৭ হাজার ৭ শত ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ৭০১ জন।


x

সর্বশেষ সংবাদ