চরম অনিশ্চয়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা

ভর্তি পরীক্ষা
করোনাভাইরাস  © ফাইল ফটো

দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আবারও পেছাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ। এর আগে গত ২১ মে থেকে এই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও মহামারির কারণে পিছিয়ে আগামী ৩১ জুলাই থেকে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

অন্যদিকে, একই কারণে দুই দফায় পিছিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালটির ভর্তি পরীক্ষা অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। শুধু এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, করোনার কারণে মেডিকেল কলেজ ছাড়া ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকের কোন পরীক্ষাই নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

আরও পড়ুন: ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ যথাসময়ে শুরু হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এরই মধ্যে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেও তা এক দফা পিছিয়ে দিয়েছে। নতুন করে ফের তারিখ ঘোষণা করা হলেও নির্ধারিত দিনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কিনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের ন্যায় ভর্তি পরীক্ষা অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রেখেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস ছামাদ বলেন, আমারা আশা করেছিলাম যে করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে ভর্তি পরীক্ষা নেবো। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে কিন্তু পরীক্ষা হয়ে যাওয়াতে অনেক ভালো হয়েছে। আমরা যদি ভর্তি পরীক্ষাটা নিতে পারতাম শিক্ষার্থীরা অন্তত ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে পারতো। তাই একটু সুযোগ পেলেই ভর্তি পরীক্ষাটা নিয়ে নেওয়াটাই বেটার হবে বলে আমি মনে করি।

সাধারণত বছরের সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হলেও করোনার কারণে গত বছর ভর্তি পরীক্ষা হয়নি। চলতি বছরের জুনে এসেও তাদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যান্য বছরে জানুয়ারির প্রথম দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়ে থাকে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির পরীক্ষা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অথচ যথসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বর্তমানে এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ৬ মাস বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পার করে আসত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও করোনার প্রাদুর্ভাবে সেটা নিতে পারেনি। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে মে মাসে আবার ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেও অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে বিইউপি। এরপর মেডিকেল কলেজ ছাড়া কোথাও কোন ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা যায়নি।

বর্তমানে দেশে ৪৬টি স্বায়ত্তশাসিত ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে  প্রতিবারের মতো এবারও মূল লড়াইটা হবে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধ লক্ষেরও বেশি আসনে।

এবার তিন গুচ্ছে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাতটি কৃষি গুচ্ছ এবং তিনটি প্রকৌশল গুচ্ছ রয়েছে। ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক আবেদন গত ২৫ জুন শেষ হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। গত ১৯ জুন থেকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। 

এই পরীক্ষার আয়োজক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে না। এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার সদস্য সচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদ্দুজ্জামান বলেন, গুচ্ছ পরীক্ষা নিয়ে আপাতত নতুন কোন সিদ্ধান্ত নেই আমাদের। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোন সিদ্ধান্তে যেতে পারছি না। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন গ্রহণ চলছে। সেখানে তারা ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা গত ৪ জুন হওয়া কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে পরীক্ষা অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। 

আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ এবং ৫টি আর্মি মেডিকেল কলেজের স্থগিত রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়া সাপেক্ষে স্থগিত হওয়া এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা যেকোন সময় হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে, সরকারি-বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাও স্থগিত রয়েছে। 

করোনার প্রাদুর্ভাব না কমায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে ভর্তি কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠেয় প্রকৌশল গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে। এর আগে তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ থেকে দুই মাস পেছানো হয়। করোনার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে বলে পরীক্ষার আয়োজক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ আরও এক মাসের বেশি পেছানো হয়েছে। এখন পুন:র্নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আরও যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়েছে: বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স)২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৮ জুনের পরিবর্তে ২০ আগস্ট বুটেক্সের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১১ ও ১২ জুলাই  ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেটি দুই মাস পেছানো হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখও পিছিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১৬ আগস্ট। করোনা পরিস্থিতিতে আবারও পিছিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। গত ২২ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও দুই মাস পেছানো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২০-২৭ আগস্টের মধ্যে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য

x